Home / প্রবৃদ্ধি / মোবাইল সেটে ভ্যাট : রাজস্ব কমবে, অর্থ পাচার বাড়বে

মোবাইল সেটে ভ্যাট : রাজস্ব কমবে, অর্থ পাচার বাড়বে

কয়েক বছর আগেও দেশে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির সময়টাতে হরহামেশাই হ্যন্ডসেটের বড় ধরনের চালান আটকের খবর পাওয়া যেত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ খবর কমে এসেছে। তবুও মাঝে মধ্যে বিমানবন্দরগুলোতে হ্যান্ডসেটের চালান ধরা পড়ে।

টেলিকম খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার শুল্ক কমিয়ে দেওয়ার পর থেকে বৈধ পথে হ্যান্ডসেট আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে কম দামের মোবাইল ফোন সেট আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চোরাচালানকারীরা ঝুঁকি নিয়েও খুব বেশি সুবিধা করতে পারছে না।

তবে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে আবারও চোরাকারবারীদের সুদিন ফিরে আসতে পারে বলে আশংকা মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের।

smart phones-techshohor

প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের কারণে চোরাই পথে আমদানি বেড়ে যাবার কথা জানিয়েছেন তারা।

আমদানিকারকদের মতে, বাজেটে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব বহাল থাকলে মোবাইল ফোন বাজারে আবারও চোরাচালানকারী ও লাগেজ পার্টির দৌরাত্ম বেড়ে যাবে। অন্তত বাজারের ৫০ শতাংশ চলে যাবে তাদের দখলে।

তাদের মতে, অবৈধ পথে পণ্য আসলে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাবে। সরকার বর্তমানে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি যে রাজস্ব পেত তাও হারাবে।

এতে বৈধ আমদানীকারকদের পাশাপাশি ভোক্তারাও যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি সরকারও বড় অংকের রাজস্ব হারাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক।

বর্তমান ধারা বিশ্লেষণ করে রেজওয়ানের দাবি, বর্তমানে ৯৬ শতাংশ মোবাইল সেট বৈধ পথে আমদানি হচ্ছে। তবে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের সঙ্গে আগের ১০ শতাংশ শুল্কহার মিলিয়ে মোট করের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে বৈধ পথে আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড ও অন্যতম আমদানিকারক সিম্ফনির মার্কেটিং বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ রফিক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে মোবাইল ফোন আরও সহজলভ্যতা করা দরকার। কিন্তু নতুন করে করারোপের সিদ্ধান্ত এ প্রক্রিয়াকে আরও পিছিয়ে দেবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এতে অবৈধ পথে পণ্য আসার প্রবণতা বাড়বে যা মোবাইল বাজারের পরিবেশ নষ্ট করবে। একই সঙ্গে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাবে।

অপর দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটনও মনে করে ভ্যাট আরোপে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোম্পানির এডিশনাল ডিরেক্টর (মোবাইল) এস এম রেজওয়ান আলম টেকশহরডটকমকে বলেন, ভ্যাট আরোপের মাধ্যমে কিভাবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হলো সেটি সুস্পষ্ট করতে হবে সরকারকেই।

ওই কর্মকর্তার মতে, মোবাইল যন্ত্রাংশের সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। তাই অন্যদের সেঙ্গ দেশীয় মোবাইল প্রস্তুতকারকরাও সমান ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এতে মূলত হুন্ডি ব্যবসায়ীরাই বেশি লাভবান হবে ও ক্ষতির মুখে পড়বে আমদানিকারক, প্রস্তুতকারক ও ভোক্তারা।

সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম অর্ধে (জুন পর্যন্ত) দেশে বৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেটের পরিমাণ ৯৮ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি। গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধির হার ২৯ শতাংশের বেশি। ২০১২ সালে বছর জুড়ে আমদানি করা হয়েছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি হ্যান্ডসেট।

বিটিআরসির এ হিসাবে দেখা যায়, ২০০৯ সালে ৯ লাখ ৭০ হাজার হ্যান্ডসেট বৈধভাবে আমদানি হয়েছে। ২০১০ এ সংখ্যা ছিল ৪৭ লাখ ৭১ হাজার ও ২০১১ সালে ৯৮ লাখ ২৩ হাজার হ্যান্ডসেট। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য হারে বৈধ পথে আমদানি বেড়েছে।

আমদানিকারকরা বলছেন, মূলত দেশে টেলিযোগাযোগ খাতের বিস্তারের সঙ্গে হ্যান্ডসেট আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। তবে নতুন কর এ ধারায় ছেদ ঘটাবে।

অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, দেশে মোবাইল ফোন বিকাশের শুরু দিকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর ছিল। সে সময় ৯৫ শতাংশ মোবাইলই চোরাই পথে আসত। কিন্তু গত কয়েক বছরে এ ধারায় পরিবর্তন এসেছে।

BMPIA focusing on budget press conference-TechShohor

তারা বলেন, সাশ্রয়ী দামে ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সুবিধা পাওয়ায় গ্রাহকরাও শোরুম কিংবা মার্কেট থেকে হ্যান্ডসেট কিনেছেন। কিন্তু নতুন করারোপে দাম বাড়লে এ ধারা বজায় থাকবে না।

তারা জানান, বর্তমানে বাজারের চাহিদা প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ হ্যান্ডসেট। আগের দুই বছরে এ চাহিদা ছিল যথাক্রমে ১ কোটি ৭৮ লাখ ও ১ কোটি ৫০ লাখ। বৈধ আমদানির পরিমাণ এর কাছাকাছি ছিল। কিন্তু নতুন করারোপ করা হলে দেশে ১ কোটিরও বেশি পিস সেট অবৈধ পথে আসবে।

বিএমপিআইএ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত বছর সরকার এ খাত প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে। এবার অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে ভ্যাট বসানো হয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে না আসলে তা সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

রেজওয়ানুল বলেন, চোরাই পণ্যে বাজার ভরে গেলে বর্তমান রাজস্বও পাবে না সরকার। উল্টো হুমকির মুখে পড়বে পুরো খাত।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএমপিআইএ।

অন্যদিকে অপর জনপ্রিয় ব্র্যান্ড স্যামসাংয়ের বাংলাদেশ প্রধান চুন সু মুন চলতি সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে একই দাবি জানিয়েছেন। তিনি চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার আশংকার কথাও অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন।

About admin

Check Also

রাজস্ব তথ্য দিতে নারাজ এইচপি

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিউলেট-প্যাকার্ড (এইচপি) ভারতে তার সফটওয়্যার ব্যবসার মুনাফা স্বগৌরবে প্রকাশ করলেও রাজস্ব সম্পর্কে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *